বাংলাস্ফিয়ারঃ পুজো শেষ হতেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রস্তুতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করল বিজেপি। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও আবেদন চাওয়া হচ্ছে। ডাকযোগে, ইমেলে অথবা দলীয় কার্যালয়ের ড্রপ বক্সে জমা দেওয়া যাবে আবেদনপত্র। শেষ সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর বিকেল পাঁচটা। শনিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে এই সময়সীমা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার।

উত্তর কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির পুরনো রাজ্য দফতরে রাখা ড্রপ বক্সে আগ্রহীরা নিজেদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। সুকান্ত জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জনসমক্ষে ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদন করার সুযোগ কেবল দলের পরিচিত নেতা বা পদাধিকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না।

তবে বাইরের ব্যক্তিদের জন্য দরজা খোলা হলেও পুরনো কর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাঁরা দলের সঙ্গে ছিলেন, প্রার্থী নির্বাচনে তাঁদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুকান্ত। তৃণমূল থেকে আসা নেতারা পুরভোটের টিকিট পেতে অগ্রাধিকার পেতে পারেন—দলের অন্দরে এমন আশঙ্কার মধ্যেই এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রার্থী বাছাইয়ের আগে সাংগঠনিক স্তরে মতামত সংগ্রহও শুরু হয়েছে।

দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হবে জয়ের সম্ভাবনা। পাশাপাশি দেখা হবে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। ওয়ার্ড, মণ্ডল এবং রাজ্য স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিধায়ক ও সাংসদেরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। ফলে শুধু আবেদনপত্র জমা দিলেই প্রার্থিপদ নিশ্চিত হবে না; স্থানীয় সংগঠনের মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে।

এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল পুজোর আগেই। অক্টোবরের গোড়ায় বিজেপি জানিয়েছিল, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নাগরিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জীবনপঞ্জি সংগ্রহ করা হবে। প্রার্থীর যোগ্যতার পাশাপাশি নিজের ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাও বিবেচনায় রাখার কথা বলেছিলেন সুকান্ত। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুরসভা পরিচালনায় এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যাঁরা শহরের উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবার কাজে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণদের অংশগ্রহণে। সুকান্ত এর আগে জানিয়েছিলেন, শহরের উন্নয়ন নিয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় দল। নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা, দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উন্নত গণপরিবহণকে সেই আলোচনায় জায়গা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই আহ্বানের মাধ্যমে প্রার্থী খোঁজার পাশাপাশি পুর প্রশাসন সম্পর্কে আগ্রহী নাগরিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাইছে বিজেপি।

এদিকে, তৃণমূলের বিচ্ছিন্ন অংশ এনসিপিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে সুকান্ত জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপি নিজের প্রতীকে লড়বে। একই সঙ্গে দলের দুর্দিনে যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের অবদান মনে রাখার কথাও বলেছেন তিনি। ফলে নতুন মুখকে জায়গা দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যেও পুরনো কর্মীদের গুরুত্বের বার্তা স্পষ্ট রাখছে নেতৃত্ব।

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর দ্রুত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করতে চায় বিজেপি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুকান্ত জানিয়েছেন, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। তার আগে আবেদন সংগ্রহ ও বিভিন্ন স্তরে আলোচনার কাজ এগিয়ে রাখতে চাইছে দল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আর আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হাওড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। জোট প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্তরের এনডিএ সমীকরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজ্যের পুরভোটে প্রযোজ্য নয়। কলকাতা ও হাওড়ায় পদ্ম প্রতীকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি এবং পুরনো কর্মীদের আশ্বস্ত করার মধ্য দিয়েই তাই নির্বাচনী তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিজেপি।